ট্রাম্পের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়
বিশ্ব রাজনীতিতে একদিকে যেখানে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও বাস্তববাদী মধ্যস্থতাকারীরা সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে কিছু নেতার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সংঘাতের ক্ষেত্রে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়ছে, যার ফলে প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পূর্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপীয় কূটনীতির ভারসাম্য নীতি কিংবা ঊনবিংশ শতকের ‘সম্মানজনক শান্তি’ ধারণা বিশ্ব রাজনীতিতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল সংকট সমাধানের নজিরও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই কার্যকর কূটনৈতিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না আসার বিষয়টি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা টেকসই হচ্ছে না।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে বহু অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, ইয়েমেন, মিয়ানমার ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে চলমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে আসছে। বারবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা হলেও স্থায়ী সমাধান না আসায় প্রশ্ন উঠছে কার্যকর মধ্যস্থতার সক্ষমতা নিয়েও।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং কার্যকর, ধারাবাহিক ও বিশ্বাসযোগ্য কূটনৈতিক উদ্যোগই কেবল দীর্ঘমেয়াদে শান্তির পথ তৈরি করতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রতি / এডি / শাআ









